সাভারের হেমায়েতপুরের কুরবানির পশুর চামড়ার জন্য চামড়া শিল্পনগরী (ট্যানারি) সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত

সাভার,স্টাফ রিপোর্টার,২৫ মে ২০২৬ (বিবিনিউজ ):আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকার চামড়া শিল্পনগরী (ট্যানারি) সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কারখানাগুলোতে মজুত রাখা হয়েছে লবণসহ নানা রাসায়নিক দ্রব্য। এছাড়া প্রস্তুত রয়েছেন অতিরিক্ত কর্মী। এবার ৬০ থেকে ৭০ ভাগ চামড়া টেনারিতে প্রবেশ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কর্তৃপক্ষ। এজন্য দেশের চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় এই ট্যানারিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং শতভাগ কাঁচা চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এবার ট্যানারি মালিক ও বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) যৌথভাবে নানামুখী পদক্ষেপের পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিসিক ও ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার আগে ভাগেই সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা সিইটিপি’র সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে।
সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে ঘুরে দেখাগেছে, বিসিক এলাকার জমে থাকা বিভিন্ন আবর্জনা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, পরিষ্কার করা হচ্ছে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন। এছাড়াও অতিরিক্ত বর্জ্য ধারণের জন্য রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট স্থান। বৈদ্যুতিক ত্রুটি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এছাড়া ঈদে বাড়তি চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুত রাখা হয়েছে চালু প্রতিটি কারখানা ।
বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী মোঃ মেহরাজুল মাঈয়ান বলেন, আমরা চামড়া সংগ্রহের জন্য ট্যানারিকে শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। চামড়া প্রক্রিয়াজাতের সময় ঈদের পর থেকে টানা তিন মাস নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের দিন এবং এর পরবর্তী কয়েকদিন সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে চামড়াবাহী ট্রাক জ্যামে পড়ে চামড়া নষ্ট না হয় সেজন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের মাধ্যমে চামড়া শিল্প নগরী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সারাদেশে ১ কোটি ২ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১০ ভাগ কম ধরে ৯০ লক্ষ্যের কম বেশি পশু কোরবানি হবে। এরমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ হিসেবে ৫৫থেকে ৬৫ লাখ চামড়া টেনারিতে প্রবেশ করবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি। গত বছর ৪৫ থেকে ৫০ লাখ পিস চামড়া ট্যানারিতে প্রবেশ করেছিল।
ইতো মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী,সচিব ও বিসিেিকর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন ট্যানারীতে মালিক ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা ও পরিদর্শন করে বিভিন্ন দিকনিদের্শনা প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর ২০৫টি প্লটের মধ্যে ১৬২টি ট্যানারির রয়েছে। এরমধ্যে ১৫৫ থেকে ১৫৬টি কারখানা চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সাভারের এই ট্যানারি পল্লী এখন শুধু চামড়া আসার অপেক্ষায়। সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এবার একটি সফল ও পরিবেশ বান্ধব চামড়া সংগ্রহের মৌসুম উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

Related posts

Leave a Comment